Opens in a new tab

এক ফোনে ২টি ফোন নম্বর ব্যবহার: সহজ ও সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

কাজ ও ব্যক্তিগত জীবন আলাদা রাখতে এখন আর দুটি ফোন সঙ্গে রাখার দরকার নেই। গত কয়েক বছরে বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ স্মার্টফোন ডুয়াল সিম প্রযুক্তি বা অ্যাপ ব্যবহার করে একসঙ্গে দুটি ফোন নম্বর চালাতে পারে। অর্থাৎ, কোনো ঝামেলা ছাড়াই একটি ডিভাইসে দুটি নম্বর পরিচালনা করা যায়।

দ্বিতীয় নম্বর চালু করা আপনার ধারণার চেয়েও সহজ। ফোনের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নেওয়ার মতো কয়েকটি বিকল্প আছে। কোনো পদ্ধতিতে ফোনের বিল্ট-ইন সুবিধা ব্যবহার করা হয়, আবার অন্যগুলো অ্যাপ বা পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল।

এই নির্দেশিকায় আপনি জানবেন কীভাবে দুটি নম্বর সেট আপ করবেন, এর সুবিধাগুলো বুঝবেন, আপনার ফোনে এই সুবিধা আছে কি না যাচাই করবেন এবং আপনার জন্য সেরা সমাধানটি বেছে নেবেন।

Smart woman talking on the phone with a laptop on desk for number validation.

এক ফোনে দুটি ফোন নম্বর কীভাবে ব্যবহার করবেন

দুটি নম্বর সেট আপ হয়ে গেলে সেগুলো ব্যবহার করা সহজ। কল করা বা মেসেজ পাঠানোর সময় লাইনের মধ্যে বদল করতে পারবেন, নির্দিষ্ট পরিচিতির জন্য নির্দিষ্ট নম্বর বরাদ্দ করতে পারবেন এবং কোন লাইনে কল বা মেসেজ আসছে তা সহজেই বুঝতে পারবেন।

ডুয়াল সিম ফোন ও eSIM প্রযুক্তি

ডুয়াল সিম ফোনে একটি ডিভাইসেই একসঙ্গে দুটি ফোন নম্বর ব্যবহার করা যায়। গত চার বছরে বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ ফোনে এই সুবিধা আছে—হয় দুটি ফিজিক্যাল সিম কার্ড স্লটের মাধ্যমে, নয়তো একটি ফিজিক্যাল সিম ও একটি eSIM (এমবেডেড সিম) দিয়ে।

আপনার ফোনে ডুয়াল সিম সুবিধা আছে কি না দেখতে সেটিংস খুলুন। iOS-এ Settings > General > About-এ যান। Samsung-এর মতো Android ডিভাইসে Settings > Connections > SIM card manager দেখুন। Google ফোনে এটি Settings > Network & Internet > Mobile Network-এর অধীনে থাকে।

কল বা মেসেজ করার সময় স্ক্রিনের ওপরের দিকে কোন লাইনটি ব্যবহার করছেন তা দেখা যাবে। প্রাথমিক ও দ্বিতীয় নম্বরের মধ্যে বদলাতে শুধু ট্যাপ করুন। প্রতিটি লাইনে নির্দিষ্ট পরিচিতি বরাদ্দ করতে পারবেন, আর ইনকামিং কলে কোন নম্বরে কল আসছে তা আইকনের মাধ্যমে দেখানো হবে।

ভার্চুয়াল ফোন নম্বরের অ্যাপ ব্যবহার

ভার্চুয়াল ফোন নম্বরের অ্যাপ ডুয়াল সিম কার্ডের প্রয়োজন ছাড়াই আপনাকে একটি দ্বিতীয় নম্বর দেয়। এই মোবাইল অ্যাপগুলো আপনার বিদ্যমান ডেটা সংযোগ ব্যবহার করে এবং ফোনের নিজস্ব কল ও মেসেজ ফিচারের সঙ্গে কাজ করে।

জনপ্রিয় ফোন নম্বরের অ্যাপের মধ্যে রয়েছে Google Voice, যা যুক্তরাষ্ট্রে বিনা মূল্যে কল ও মেসেজ করার সুবিধা দেয়। নিজের পছন্দমতো নম্বর বেছে নিয়ে অ্যাপের মাধ্যমেই সবকিছু পরিচালনা করতে পারবেন।

তবে, আপনার অগ্রাধিকার যদি হয় গোপনীয়তা, পরিচয় গোপন রেখে কল করা, সুরক্ষিত মেসেজিং এবং একটি ফোনে একাধিক অস্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি নম্বর পরিচালনা, তাহলে TrueNumber বিবেচনা করার মতো একটি দারুণ বিকল্প।

একাধিক নম্বরের জন্য VoIP পরিষেবা

VoIP পরিষেবা ইন্টারনেট কলের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কাজে উপযোগী দ্বিতীয় ফোন নম্বর দেয়। OpenPhone, RingCentral ও Dialpad-এর মতো VoIP পরিষেবা প্রদানকারীরা সাধারণ কল ও মেসেজের বাইরেও পেশাদার ফিচার দেয়।

এই VoIP অ্যাপগুলোতে সাধারণত কল রাউটিং, ভয়েসমেইলের লিখিত প্রতিলিপি এবং দলগত সহযোগিতার টুল থাকে। আনলিমিটেড কল ও উন্নত ফিচারের জন্য মাসিক ফি দিতে হয়। WhatsApp ও Skype-এর মতো জনপ্রিয় বিকল্পও ইন্টারনেটে কল করার জন্য VoIP প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

এক ফোনে দুটি নম্বর ব্যবহারের প্রধান সুবিধা

একটি ডিভাইসে দুটি ফোন নম্বর থাকলে কে কীভাবে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে, তার ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ বাড়ে এবং জীবনের বিভিন্ন দিক গুছিয়ে রাখা সহজ হয়।

কাজ ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ আলাদা রাখা

একটি দ্বিতীয় ব্যবসায়িক লাইন থাকলে ব্যক্তিগত কলের চেয়ে ব্যবসায়িক কলের উত্তর আলাদাভাবে দিতে পারবেন। রিসিভ করার আগেই কলার আইডি দেখে বুঝতে পারবেন কোন নম্বরে কল আসছে। ফলে ভুল করে কাজের কলে অনানুষ্ঠানিকভাবে বা ব্যক্তিগত কলে অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলবেন না।

ব্যবসায়িক ফোন নম্বরে ভয়েসমেইল ও অটো-অ্যাটেনড্যান্টের মতো ব্যবসায়িক ফোনের সুবিধা পাবেন। আপনার ব্যক্তিগত নম্বরটি থাকবে পরিচ্ছন্ন ও সরল। কাজ শেষ হলে ব্যক্তিগত নম্বর সচল রেখেই দ্বিতীয় লাইনটি নীরব করে রাখতে পারবেন। অনেক পরিষেবায় দুই লাইনেই আনলিমিটেড কথা বলা ও মেসেজ পাঠানোর সুবিধা থাকে, তাই মিনিট ফুরিয়ে যাওয়ার চিন্তা নেই।

গোপনীয়তা ও উন্নত নিরাপত্তা

অনলাইন নিবন্ধন বা প্রথম ডেটে দ্বিতীয় লাইন ব্যবহার করলে আপনার ব্যক্তিগত ফোন নম্বর গোপন থাকবে। ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ না করেই ক্লায়েন্ট ও গ্রাহকদের ব্যবসায়িক নম্বর দিতে পারবেন।

স্প্যাম কল আসা শুরু করলে বুঝতে পারবেন কোন নম্বরটি আরও সুরক্ষিত রাখা দরকার। গ্রাহকদের জন্য টোল-ফ্রি নম্বরও চালু করতে পারেন, আর নিজের আসল নম্বরটি সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে পারেন।

কাজ ও জীবনের ভারসাম্য এবং নমনীয়তা

দুটি ফোন নম্বর আলাদাভাবে পরিচালনা করে কাজের পরিচিতিরা কখন আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন, তা নিয়ন্ত্রণ করুন। অফিস সময়ের পরে বা ছুটির দিনে ব্যবসায়িক লাইন বন্ধ রাখুন। এতে কাজ মোবাইল নেটওয়ার্কে সীমাবদ্ধ থাকবে, পারিবারিক সময়ে ছড়িয়ে পড়বে না।

ব্যবসায়িক ফোন পরিষেবার সঙ্গে প্রায়ই ডেস্কটপ অ্যাপ থাকে। ফলে অফিস সময়ে কম্পিউটার থেকে কল নিতে পারবেন, আর ব্যক্তিগত সময়ে শুধু মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন।

ডিভাইস ও ক্যারিয়ারের সামঞ্জস্য

একটি ডিভাইসে দুটি ফোন নম্বর ব্যবহার করতে হলে আপনার ফোনে উপযুক্ত হার্ডওয়্যার থাকতে হবে এবং ক্যারিয়ারকে ডুয়াল নম্বরের সুবিধা দিতে হবে।

ডুয়াল সিম ও eSIM-এর জন্য ফোনের সমর্থন যাচাই

বেশিরভাগ আধুনিক ফোনে ডুয়াল সিম বা eSIM প্রযুক্তির মাধ্যমে দুটি নম্বর ব্যবহারের সুবিধা আছে। এই ফিচারগুলো আছে কি না দেখতে ফোনের সেটিংস পরীক্ষা করুন।

iPhone XS ও পরবর্তী মডেলগুলোতে eSIM আছে। Samsung Galaxy S20 ও পরবর্তী ফোনগুলো ডুয়াল সিম সমর্থন করে। অনেক Android ডিভাইসে দুটি ফিজিক্যাল সিম স্লট অথবা eSIM ব্যবহারের সুবিধা থাকে।

ফোনের সেটিংসে “Network” বা “SIM cards”-এর অধীনে ডুয়াল সিম সমর্থন খুঁজে পাবেন। প্রতিটি সিমে ভিন্ন ক্যারিয়ার ব্যবহার করতে হলে ডিভাইসটি আনলক করা থাকতে হবে।

প্রধান ক্যারিয়ার ও তাদের সুবিধা

T-Mobile-এর DIGITS পরিষেবায় একটি ডিভাইসে একাধিক ফোন নম্বর ব্যবহার করা যায়। Verizon ব্যবসায়িক ব্যবহারকারীদের জন্য দ্বিতীয় নম্বরের পরিষেবা দেয়। AT&T তাদের নেটওয়ার্কে ডুয়াল সিম ফোন সমর্থন করে।

ডুয়াল সিম ব্যবহারের জন্য প্রতিটি ক্যারিয়ারের ডেটা প্ল্যান আলাদা। বেশিরভাগ ক্যারিয়ারে eSIM প্রযুক্তি চালু করতে ইন্টারনেট সংযোগ দরকার।

আপনার জন্য উপযুক্ত সমাধান বেছে নেওয়া

আপনার বাজেট, কল পরিচালনার প্রয়োজন এবং দ্বিতীয় নম্বরের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ চান—এসবের ওপর আপনার পছন্দ নির্ভর করবে।

খরচ ও ফিচারের তুলনা

ডুয়াল সিম ফোনে দুটি আলাদা ক্যারিয়ার প্ল্যান লাগে, যার প্রতিটি লাইনের জন্য মাসে $30-$100 খরচ হতে পারে। ভার্চুয়াল নম্বর প্রদানকারীরা সাধারণত মাসে $12-$40 নেয় এবং কল ফরওয়ার্ডিং ও কল রাউটিং-এর মতো ফিচার দেয়। VoIP অ্যাপ প্রায়ই বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায়, তবে কাজ করার জন্য ইন্টারনেট লাগে।

ব্যবসায়িক কাজে ভার্চুয়াল নম্বরে সবচেয়ে বেশি ফিচার পাওয়া যায়। বিভিন্ন ডিভাইস ও নম্বরের মধ্যে কল পাঠাতে কল ফরওয়ার্ডিং পাবেন। অনেক প্রদানকারী বিনা মূল্যে ট্রায়াল দেয়, যাতে তাদের পরিষেবা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

সেটআপ ও পরিচালনার পরামর্শ

দুটি সিম কার্ড হাতে থাকলে ডুয়াল সিম সেটআপ করতে কয়েক মিনিটই লাগে। ইনকামিং কল সহজে শনাক্ত করতে ফোনের সেটিংসে নম্বর দুটিকে “কাজ” ও “ব্যক্তিগত” নামে চিহ্নিত করুন।

ভার্চুয়াল নম্বরের অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে তা ডাউনলোড করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। বেশিরভাগ অ্যাপ সহজ নির্দেশনার মাধ্যমে সেটআপ করিয়ে নেয়। নতুন নম্বরটি কাউকে দেওয়ার আগে আপনার কল রাউটিং সেটিংস পরীক্ষা করে নিন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

একটি iPhone-এ কীভাবে দুটি ফোন নম্বর সেট আপ করব?

ডুয়াল সিম সুবিধাযুক্ত iPhone লাগবে। আপনার ফোনে এই সুবিধা আছে কি না দেখতে Settings > General > About-এ যান। সাম্প্রতিক বছরের বেশিরভাগ iPhone-এ একটি ফিজিক্যাল সিম ও একটি eSIM ব্যবহারের সুবিধা আছে। ক্যারিয়ারের মাধ্যমে দ্বিতীয় নম্বর যোগ করতে পারেন অথবা ভার্চুয়াল নম্বর দেয় এমন অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

Android ডিভাইসে দ্বিতীয় ফোন নম্বর চালু করার ধাপগুলো কী?

Settings > Network & Internet > Mobile Network-এ গিয়ে আপনার Android ফোনে ডুয়াল সিম সুবিধা আছে কি না দেখুন। থাকলে দ্বিতীয় ফিজিক্যাল সিম কার্ড ঢোকাতে পারেন অথবা ক্যারিয়ারের কাছ থেকে eSIM ডাউনলোড করতে পারেন। কল বা মেসেজ করার সময় কোন নম্বরটি ব্যবহার করবেন, ফোনে তা বেছে নেওয়ার সুবিধা থাকবে।

2Number পরিষেবার জন্য মার্কিন ফোন নম্বর পরিচালনা, ক্রেডিট এবং অ্যাকাউন্টের অবস্থা দেখানো মোবাইল অ্যাপের স্ক্রিন।

TrueNumber

ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ফোন নম্বর—কল করুন, টেক্সট পাঠান ও যাচাই করুন

একটি নির্দিষ্ট দ্বিতীয় ফোন নম্বরের মাধ্যমে TrueNumber আপনার গোপনীয়তা সুরক্ষিত রাখে। কল করুন, টেক্সট পাঠান এবং যাচাইকরণ কোড গ্রহণ করুন।